সকালে উঠেই রোজ চিনি দেওয়া চা বা কফি খান নিশ্চয়ই ? আর তারপর ব্রেকফাস্ট করে দাঁত মাজেন তো নাকি মাজেন না? নিজের অজান্তেই রোজ বদ অভ্যাস গড়ে তুলছেন না তো ? প্রতিদিন কোন কাজটা করা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয় ? জেনে নিন এই প্রতিবেদনে…নাহলে বদ অভ্যাসগুলো থেকেই যে কোনদিন হতে পারে বড়সড় বিপদ।

এবার আমরা জেনে নেব বিভিন্ন খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে যেগুলো আমাদের সকলেরই এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রথম যে ভুলটা আমরা প্রায় দিন সকালেই করে থাকি সেটা হল অ্যালার্ম Snooze করে দেওয়া। অর্থাৎ যখন আমাদের ঘুম থেকে উঠে কাজে মন দেওয়া উচিত তখন আমরা সেটা না করে ঘুম চোখেই এলার্মের Snooze Button টিপে দিই । যার ফলে আমাদের সারাদিনের সব কাজেই দেরি হয়ে যায়। ফলে, দিনের প্রথম কাজটা শেষ করার সময় আমাদের মোটিভেশন কমতে থাকে। এমনকি একবার ঘুম ভেঙে চোখ খোলার পর যখন আপনি অ্যালার্ম ঘড়িটা বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়েন তখন আপনার রোজকার ঘুমের সময়টাই এলোমেলো হয়ে যায়। গবেষকদের মতে যখন কেউ একবার ঘুম থেকে ওঠার পর এলার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে তখন তাদের ঘুম আরো বেশি গাঢ় হয়ে যায়। প্রথম এলার্ম ক্লক বাজার সাথে সাথেই ঘুম থেকে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া হল সব থেকে ভালো অভ্যাস। সেই কারণে, আপনি যদি মোবাইলে অ্যালার্ম দেন তাহলে সেক্ষেত্রে মোবাইলটি আপনি খাট থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। তাহলে উঠে গিয়ে এলার্ম বন্ধ করার সময়ে আপনার ঘুমও অনেকটাই কেটে যাবে। আর এই অভ্যাসটি পরপর অন্তত ১০ দিন করলে বদ অভ্যাস থেকে মুক্তি তো মিলবেই।

দ্বিতীয় বাজে অভ্যেসটি হল , রোজকার রুটিন ফলো না করা। প্রতিদিন আমরা যত ছোট বড় চিন্তা ভাবনা করতে থাকি তার জন্য এনার্জি ব্যয় হয় এবং সারাদিন ধরে এভাবেই এনার্জি কমতে থাকে। তাই আমরা দিনের শেষে খুব ক্লান্ত অনুভব করি। তাই প্রতিদিন সকালবেলা উঠে সারাদিন ধরে কি কি করবেন সেটা ভাবার বদলে এমন কিছু কাজ করুন যেগুলি আপনাকে মানসিকভাবে শান্তি দেবে। তাই, সকালবেলা উঠে এমন কিছু কাজ করুন যেগুলি করার জন্য বেশি ভাবনা-চিন্তার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যেমন প্রতিদিন সকালে উঠে নিজের জন্য চা অথবা কফি নিজেই বানিয়ে নেওয়া , তারপর আরাম করে বসে মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়া, নিজের সন্তানদের সাথে কিছুটা সময় কাটানো , জলখাবার তৈরি করা এইসব আর কী! তাই রাতে শোয়ার আগে আগামীকালের রুটিন বানিয়ে ফেলুন। তাতে আপনার চিন্তাও কমবে আর আপনিও এক্কেবারে ফুরফুরে মেজাজে সারাটা দিন কাটাতে পারবেন।

তৃতীয় এবং সবথেকে বড় ভুল হল সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনটি আগে চেক করা। ফলে আমরা না চাইতেও অন্যদের সাথে নিজেদেরকে তুলনা করে ফেলি এবং মোটিভেটেড হওয়ার পরিবর্তে ডিমোটিভেটেড হয়ে পড়ি। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সকালবেলা আমরা যা কিছু দেখি শুনি বা পরি তা সেগুলো সারাদিন আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে এবং নানান রকম চিন্তা ও অস্বস্তিতে কাটে আমাদের সারাটা দিন। তাই দিনের শুরুতেই অন্য কারোর ভাবনা-চিন্তাকে নিজের মাথায় না ঢুকিয়ে আপনাদের উচিত দিনের শুরুতে নিজেকে নিয়ে ভাবা। তাই, সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম এক দুই ঘন্টা এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগের এক দুই ঘন্টা নিজে থেকে মোবাইল ফোনটিকে দূরেই রাখুন।

চতুর্থ বদ অভ্যাসটি হলো ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা না গোছানো। ঘুম থেকে উঠেই প্রথম আপনার যে কাজটি করা উচিত তা হলো নিজের বিছানাটিকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে ফেলা। বন্ধুরা , জীবনে সফল হতে গেলে সব সময় একটি নিয়মের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করা খুবই প্রয়োজন । আর ঘুম থেকে উঠে বিছানা ঠিক করার এই অভ্যেসটি খুব ছোট হলেও এটি আপনাকে একটি নিয়মানুবর্তি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আর এই ছোট্ট কাজটি আপনার জীবনের কোন ক্ষতি না করলেও বরং আপনার জীবনে কিছু উন্নতি তো করেই। আর এই কারণেই মিলিটারিদের সকালবেলা উঠে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বিছানা গুছাতেই হয়।

পঞ্চম বদ অভ্যাসটি হলো সকালে উঠে পরিমাণ মতো জল পান না করা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারাদিনে তিন থেকে চার লিটার জল প্রয়োজন। তবে সেটা দিনে একবারে নয় বারবার করে পান করতে হয়। অনেকেই ঠিকমতো ঘুমলেও সারাদিনই কেমন যেন ক্লান্ত অনুভব হয়, সারাদিন যেন মনে হয় মাথা ধরে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো ঠিক মতন জল পান না করা। সাত-আট ঘন্টা ঘুমানোর সময় কোন জল আপনি পান করেন নি অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে উঠার পর আপনার শরীর হয়ে রয়েছে ডিহাইড্রেটেড অর্থাৎ সেই মুহূর্তে আপনার শরীরে জলের প্রয়োজন। তাই সকলের উচিত এক গ্লাস জল অর্থাৎ প্রায় আড়াইশো মিলি লিটার জল সকালে উঠেই পান করা। তাতে আমাদের শরীর ডিহাইড্রেটেড হবে না এবং ক্লান্ত বোধ করবে না।

কথায় বলে, “মর্নিং শ্যোজ় দা ডে” অর্থাৎ যার সকালবেলা মানে দিনের শুরুটা খুব ভালোভাবে হয় তার সারা দিনটাও খুব ভালো কাটে। কিন্তু আপনি যদি দিনের শুরুতেই কিছু ভুল করে ফেলেন তাহলেই তার খারাপ প্রভাব পড়বে সারা দিনের সব কাজেই। আর তার ফলে সারা দিন তো বটেই এমনকি ভবিষ্যতেও দীর্ঘদিন ধরে তার ফল ভুগতে হতে পারে আপনাকে। এমন অনেক ছোট খাটো কিন্তু ক্ষতিকর ভুল রোজই বেশিরভাগ মানুষই করে থাকেন । তাই এই ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন হন আর সুস্থ থাকুন।

Leave A Comment

All fields marked with an asterisk (*) are required

Chat with us on WhatsApp
This website uses cookies to enhance your experience.