বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে একাধিক অসুখ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে যে শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউরিনের সমস্যা। প্রস্রাব পেলে ধরে রাখতে না পারা, হওয়ার সময়ে জ্বালা-যন্ত্রণা, অল্প অল্প করে ইউরিন হওয়া, তলপেটের নীচে ব্যথা….এইসব সমস্যায় জেরবার হন বহু বয়স্ক ব্যক্তিই। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, জল বেশি করে খেলে ঠিক হয়ে যাবে এমনটা মনে করে…বাড়ির প্রবীণ সদস্যরা নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনেন।
ইউরিন সংক্রান্ত যে যে সমস্যাগুলো বয়স্ক মানুষদের মধ্যে দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হেমাচুরিয়া। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত নির্গত হওয়াকে হেমাচুরিয়া বলে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, প্রস্রাবের সঙ্গে কিন্তু নানা কারণে রক্ত বেরোতে পারে। তার সঙ্গে ব্যথা, যন্ত্রণা, জ্বালাও হতে পারে। ইউরিন ইনফেকশন থেকে শুরু করে কিডনি স্টোন, এমনকি বিনাইন প্রস্থেটিক হাইপারপ্লেসিয়া অর্থাৎ বয়সের সঙ্গে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও গ্ল্যান্ড থেকে রক্ত নির্গত হতে পারে।

হেমাচুরিয়ার সঙ্গে ব্লাডার ক্যানসারের যোগসূত্র রয়েছে। একটা কথা মাথায় রাখা দরকার, ধূমপান করলে কিডনি এবং ব্লাডার ক্যানসারও হতে পারে। পুরুষদের মধ্যে প্রায়ই প্রস্টেট ক্যানসার দেখা যায়। প্রথম দিকে উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। ইউরোলজিস্টেরা প্রস্টেট গ্ল্যান্ড পরীক্ষা করে বলতে পারেন কোনও টিউমর হচ্ছে কি না। মূলত পঞ্চাশ বছরের পরেই এই রোগ বেশি দেখা যায় বিশেষত যদি পরিবারে প্রস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকে।
এছাড়াও অন্যান্য জটিলতা তো বয়স বাড়লে হয়েই থাকে। ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডার (ওএবি), বয়সের সঙ্গে প্রস্রাবের থলির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া। বিভিন্ন ধরণের রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। পেলভিক মাসলের কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো করলেও বহুক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যাবে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা দরকার, বিশেষজ্ঞেরা সমস্যা এবং বয়স বুঝে জল খাওয়ার নিদান দেন। তাই ইউরিন সংক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তি পেতে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

